গঙ্গা নদীর গতিপথ বর্ণনা করো। গঙ্গার বামতীরের ও ডানতীরের উপনদীগুলি সবিস্তারে বর্ণনা করো ।

দক্ষিণে গঙ্গা নদীর গতিপথ:

  • গঙ্গা ভারতে দীর্ঘতম ও বৃহত্তম নদী ।
  • পৃথিবীর ৩৯তম দীর্ঘ নদী গঙ্গা ।
  • গঙ্গার দৈর্ঘ্য : ২,৫২৫ কিমি
  • উৎপত্তি : কুমায়ুন হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহের (গঙ্গোত্রী হিমবাহের হিমবাহের উচ্চতা ৭,০১০  মিটার) গোমুখ গুহা হতে ভাগীরথী নদীর সৃষ্টি । এই জলধারা সংকীর্ণ গিরিখাতের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দেবপ্রয়াগের কাছে অলকানন্দার সাথে মিলিত হয়ে গঙ্গা নাম প্রবাহিত হয়েছে ।
    অলকানন্দা হল অলকানন্দা, পিন্ডার ও মন্দাকিনীর মিলিত প্রবাহ ।
    অলকানন্দা - বদ্রীনাথের নিকট অলকানন্দা হিমবাহ থাকে উৎপন্ন
    পিন্ডার - পিন্ডের হিমবাহ থাকে উৎপন্ন
    মন্দাকিনী - কেদারনাথের নিকট ঘোড়াবাড়ি হিমবাহ থাকে উৎপন্ন
  • প্রবাহপথ :  গঙ্গা নদীর গতিপথে তিনটি প্রবাহ নিৰ্দিষ্ট ভাবে লক্ষ্য করা যায় । সেগুলো হলো -
    ১) উচ্চ গতি বা পার্বত্য প্রবাহ
    ২) মধ্য গতি বা সমভূমি প্রবাহ
    ৩) নিন্ম গতি বা  ব-দ্বীপ

    এখন উপরিউক্ত প্রবাহগুলো আলোচনা করা যাক -

    ১) উচ্চ গতি বা পার্বত্য প্রবাহ :

    উৎপত্তি স্থান থাকে হরিদ্বার পর্যন্ত গঙ্গার উচ্চ গতি বা পার্বত্য প্রবাহ । এই ভাবে পার্বত্য প্রবাহে ২৫০ কিমি প্রবাহিত হওয়ার পর হরিদ্বারের নিকট নাগটিব্বা  ও শিবালিক পাহাড় অতিক্রম করে গঙ্গা সমভূমিতে প্রবেশ করেছে ।

    ২) মধ্য গতি বা সমভূমি প্রবাহ :

    হরিদ্বার থাকে  বিহারের রাজমহল পাহাড় পর্যন্ত গঙ্গার মধ্যপ্রবাহ।

    সমভূমিতে প্রবেশ করে গঙ্গা প্রথমে দক্ষিণ - পূর্বে  ও পড়ে পূর্বে প্রবাহিত হয়েছে । এই অঞ্চলে গঙ্গার ডান ও বামতীরে অনেক উপনদী মিলিত হয়েছে ।

    ৩) নিন্ম গতি বা  ব-দ্বীপ:

    অতঃপর রাজমহল পাহাড়ের নিকট পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে মুর্শিদাবাদের  ধুলিয়ানের কাছে গঙ্গা  দুটি শাখাতে বিভক্ত হয়েছে । প্রধান শাখা পদ্মা নাম বাংলাদেশ এ প্রবেশ করে মেঘনার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে । অন্য শাখাটি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণে প্রবেশ করে ভাগীরথী -হুগলী নাম ও পরে হুগলী নাম কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গপোসাগরে মিলিত হয়েছে। রাজমহল পাহাড় থাকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত গঙ্গার নিন্ম গতি ।
এই অঞ্চলে গঙ্গা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ব-দ্বীপ সৃষ্টি করেছে । এটি গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ বা গঙ্গা - ব্রম্মপুত্র  ব-দ্বীপ বলে । এই অঞ্চলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ অরণ্যের সৃষ্টি হয়েছে । 



গঙ্গার  বামতীরের উপনদী :

গঙ্গার বামতীরের উপনদীগুলো হিমালয় থাকে উৎপন্ন হয়েছে । এগুলি হল -

  • রামগঙ্গা 
  • গোমতী 
  • ঘর্ঘরা (কারনালী ও সরযূর এর মিলিত প্রবাহ)
  • গণ্ডক (কালীগণ্ডক , কৃষ্ণ গণ্ডক ও নারায়ণীর মিলিত প্রবাহ )
  • বুড়িগণ্ডক 
  • বাগমতী 
  • কোশী (কোশী হলো হিমালয় থাকে উৎপন্ন সপ্তনদীর মিলিত প্রবাহ । এই গুলি হল - ইন্দ্রাবতী, তমকোশী, দুধকোশী, লিখুখোলা, সুনকশী, অরুন ও তামুর)
  • মহানন্দা 

গঙ্গার  ডানতীরের  উপনদী :

গঙ্গার ডানতীরের উপনদীগুলোর মধ্যে প্রধান হলো যমুনা । যমুনেত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে যমুনা এলাহাবাদের কাছে গঙ্গার সাথে মিলিত হয়েছে । হিমালয় থাকে উৎপন্ন যমুনার বামতীরের উপনদী হলো টোনস ও গিরি । মধ্যেভারতের উচ্চভূমি থাকে উৎপন্ন যমুনার ডানতীরের উপনদীগুলো হল  - চম্বল, বেতওয়া ও কেন ।  

ছোটনাগপুর মালভূমি থাকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে অনেক নদী গঙ্গার শাখানদী ভাগীরথী - হুগলীর সাথে মিলিত হয়েছে । এগুলো হলো -

  • ব্রাহ্মণী 
  • দ্বারকা 
  • ময়ূরাক্ষী 
  • অজয় 
  • দামোদর
  • রূপনারায়ণ (শিলাই ও দ্বারকেশ্বর - এর মিলিত প্রবাহ )
  • হলদি (কাঁসাই ও কেলেঘাই - এর মিলিত প্রবাহ )  

গঙ্গার  শাখানদী :

প্রধান শাখা ভাগীরথী -হুগলী , মুর্শিদাবাদ থাকে হুগলী পর্যন্ত ভাগীরথী ও বহুগলী থাকে মোহনা  পর্যন্ত হুগলী নাম পরিচিত ।এই নদী থাকে উৎপন্ন অনেক শাখানদী ব-দ্বীপ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়েছে । এগুলো হলো - মাথাভাঙ্গা , চূর্ণী , পিয়ালী , সপ্তমুখী , রায়মঙ্গল, জামিরা, মাতলা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ।