ইঙ্গ-তিব্বত সম্পর্ক । লাসা চুক্তি । সিমলা চুক্তি

ইঙ্গ-তিব্বত সম্পর্ক । লাসা চুক্তি । সিমলা চুক্তি


১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দ : বোগলের নেতৃত্বে ওয়ারেন হেস্টিংস বাণিজ্যিক মিশন তিব্বতের ধর্মগুরু দালাই লামার কাছে পাঠান । কিন্তু দালাই লামা কোনো আগ্রহ প্রকাশ করেননি ।

চীনের সাথে চুক্তি : ১৮৮৭ সালে তিব্বত সিকিম আক্রমণ করলে, চিন ও ভারত সরকারের মধ্যে একটি ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দ একটি চুক্তি হয় এবং সিকিম ও তিব্বত সীমানা নির্ধারিত হয় । পরবর্তী কালে ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে চীনের সাথে আর একটি চুক্তি হয়, ফলে তিব্বত-সিকিম সীমান্তে ইংরেজরা একটি বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে ।

লাসা চুক্তি (লাসা সন্ধি) / ইয়ংহাসব্যান্ড মিশন :
লর্ড কার্জনের শাসন কালে দালাই লামা, দোরজিয়েফ নাম একজন রুশ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর প্রভাবাধীন হয়ে পড়ে । দোরজিয়েফ-এর নেতৃত্বে ১৮৯৮, ১৯০০ এবং ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়ায় তিব্বতী প্রতিনিধি দল পাঠায় ।
ফলে বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে কর্নেল ফ্রান্সিস ইয়ংহাসব্যান্ডের (Francis Younghusband) নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র বাহিনী তিব্বতের রাজধানী লাসায় পাঠান । এই মিশনকে ইয়ংহাসব্যান্ড মিশন বলে ।
তিব্বতিরা বাধা দিয়ে পরাজিত হন ও দালাই লামা চিনে পালিয়ে যান । শেষ পর্যন্ত ইয়ংহাসব্যান্ড রাজপ্রতিনিধিদের সাথে ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত করেন । এই চুক্তি লাসা চুক্তি নাম পরিচিত ।

এই চুক্তির শর্তানুসারে -
  1. ইংরেজরা জিয়াংসি, গার্টক ও ইয়াটুঙ্গে - তিনটি বাণিজ্য ঘাঁটি স্থাপন করেন ।
  2. যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ তিব্বত সরকার ৭৫ লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য হয় ।
  3. চুম্বি উপত্যকা ইংরেজদের অধীনে আসে ।
  4. ব্রিটিশ সরকার তিব্বতিদের অভন্তরীন ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে না এবং তিব্বতিরা ইংরেজদের বিনা অনুমতিতে অন্য দেশের প্রতিনিধিদের তিব্বতে ঢুকতে দেবে না ।
১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ড ও রাশিয়া তিব্বতের নিরপেক্ষতা মেনে নেয় ও তিব্বতের উপর চীনের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে । তাই পার্সিভাল স্পীয়ার মনে করেন কার্জনের এই অভিযান "মধ্য এশিয়ায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিদায় সংগীত"

সিমলা চুক্তি :
১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে ভারত -চীন -তিব্বত একত্রে ম্যাকমোহন লাইন দ্বারা ভারত -চীন -তিব্বত সীমান্ত স্থির করে ।  সিমলাতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় । তাই একে সিমলা চুক্তি বলে ।