নিউরোন কি? চিত্র সহ নিউরোনের গঠন ব্যাখ্যা করো

নিউরোন : নিউরোন হল নার্ভতন্ত্রের গঠনমূলুক ও ক্রিয়ামূলুক একক । অসংখ্য নার্ভকোষের বা নিউরোনের সমন্বয়ে নার্ভতন্ত্র বা স্নায়ুতন্ত্র গঠিত ।
নিউরোনের গঠন :

নিউরোন ২টি অংশ নিয়ে গঠিত -
  1. কোষদেহ (Parikaryon)
  2. প্রবর্ধক বা প্রলম্বিত অংশ (Processes) 
১. কোষদেহ (Parikaryon) : নিউরোনের কোষদেহকে নিউরোসাইটন (Neurocyton) বলে । একে সোমা (Soma) নামেও পরিচিত । এটির আকৃতি নক্ষত্রাকৃত, গোলাকার, শঙ্কুর মতো, ত্রিকোণাকৃতি ইত্যাদি হতে পারে । কোষদেহ নিন্মলিখিত অংশগুলি নিয়ে গঠিত -
  • কোষঝিল্লী (Cell membrane) - ইহা লাইপোপ্রোটিনের দ্বারা গঠিত । কোষঝিল্লী ডেনড্রাইটস Axon -এ সম্প্রসারিত ।
  • সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm) - কোষদেহের সাইটোপ্লাজমকে নিউরোপ্লাজম বলে । ইহাতে নিজল-কনা , গোলাকার ও সূত্রাকার মাইটোকন্ড্রিয়া, মোটা গলগি বডি, রাইবোজোম, নিউরোফাইব্রিল এবং অন্তঃ কোষ জালক ইত্যাদি বস্তুগুলি থাকে ।
  • নিউক্লিয়াস (Nucleus) - দেহকোষে একটি মাত্র বৃহদাকৃতি গোলাকার বা ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস দেখা যায় । এটির মধ্যে একটি নিউক্লিওলাস দেখা যায় ।
  • নিজল দানা (Nissle granules) - Axon হিলক ছারা কোষদেহের সাইটোপ্লাসমে অসংখ্য ছোট ছোট কনা দেখা যায় । এগুলোকে নিজল দানা বলে । এগুলো রাইবো - নিউক্লিও প্রোটিন দ্বারা গঠিত । এগুলো একধরণের রাইবোজম কনা । কোষের প্রোটিন সংশ্লেষ করা যাদের বিশেষ কাজ ।
  • নিউরোফাইব্রিল (Neurofibril) - কোষদের সাইটোপ্লাজমে অসংখ্য সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম তন্তু ড্রেনড্রনের দিক থাকে Axon-এর দিকে বিস্তৃত থাকে । এগুলোকে নিউরোফাইব্রিল বলে ।
  • মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria) - দেহকোষে অসংখ্য মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে।
  • গলগি বডি (Golgi body) - সাইটোপ্লাজমে অসংখ্য গলগি বডি এবং অন্তঃকোষ জালক দেখা যায়।
  • সেন্ট্রোজোম (Centrosome) - স্নায়ুকোষে সেন্ট্রোজোম দেখা যায় কিন্তু এগুলো নিষ্ক্রিয়, তাই স্নায়ুকোষ বিভাজিত হতে পারে না ।
২. প্রবর্ধক বা প্রলম্বিত অংশ (Processes) : কোষদেহ হইতে যে সমস্ত শাখা - প্রশাখা বাহির হয়, তাহাকে প্রবর্ধক বা প্রলম্বিত অংশ বলে । ইহা দুই প্রকার - ড্রেনড্রনAxon
  • ড্রেনড্রন (Dendrons) বা ডেনড্রাইট - ড্রেনড্রনগুলি ছোট ছোট শাখা-প্রশাখা যুক্ত অন্তর্বাহ শাখা সমূহ । এগুলো উদ্দীপনা গ্রহণ করে ও কোষদেহে প্রবাহিত করায় ।
  • Axon - Axon সংখ্যায় একটি তন্তু ও নিউরোনের বহির্বাহ অংশ । ইহা উদ্দীপনাকে কোষদেহ হইতে দূরে প্রেরণ করে ।
গঠন অনুসারে স্নায়ুতন্তুকে ২ ভাগে ভাগ করা হয় । যথা -
ক) মেডালেটেড তন্তু (Medullated fibre)
খ) ননমেডালেটেড তন্তু (Medullated fibre)

ক) মেডালেটেড তন্তু (Medullated fibre) - এটি তিনটি পদার্থ দ্বারা গঠিত । যেমন - Axis Cylinder, মেডালারী আবরনী (Medullary Sheath) বা মায়ালিন আবরণী (Myelin sheath) এবং নার্ভঝিল্লী বা নিউরোলেমা (Neurolemma)
  • Axis Cylinder সাইটোপ্লাজমের সহিত নার্ভকোষের সাইটোপ্লাজমের প্রতক্ষ্য ভাবে যোগাযোগ থাকে । 
  • কোষদেহের যে অংশ হইতে Axon বাহির হয় তাহাকে Axon Hillock  বলে । 
  • Axon Cylinder যে পাতলা পর্দা দ্বারা বেষ্টিত থাকে তাকে Axolema বলে । 
  • Axon Hillock এবং Axon-এর শেষ প্রান্ত ছাড়া অন্য সব স্থান মেডালারী আবরনী (Medullary Sheath) বা মায়ালিন আবরণী (Myelin sheath) দ্বারা আবৃত থাকে । মায়ালিন আবরণী প্রোটিন জাতীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত । মায়ালিন আবরণী নার্ভতন্তুর ইন্সুলেটরের করে উদ্দীপককে অন্যান্য নার্ভতন্তুতে প্রবাহিত হতে বাধা দেয় ।
  • কেন্দ্রীয় নার্ভতন্ত্রের নার্ভতন্তু ব্যতীত অন্য সব স্নায়ুতন্তুতে অখণ্ড, নিউক্লয়াসযুক্ত আরও একটি দ্বিতীয় আবরণী থাকে । তাহাকে নিউরোলেমা (Neurolema) বলে । নিউরোলেমার প্রধান কার্য হলো স্নায়ুতন্তুকে রক্ষা করা ও স্নায়ুতন্তুর পুনর্জননে সাহায্য করা ।
  • মায়ালিন আবরণী ও নিউরোলেমার মধ্যে চ্যাপ্টা নিউক্লয়াস যুক্ত কোষ দেখা যায় , তাহাকে সোয়ান কোষ (Schwann Cell) বলে । এটি মায়ালিন আবরণী সৃষ্টি করে । 
  • নিয়মিত ব্যবধানে মেডালেটেড স্নায়ুতন্তুতে মাঝে মাঝে মায়ালিন আবরণী বিচ্ছিন্ন থাকে ।ফলে বহিঃস্থ নিউরোলেমা আবরণী Axon-এর সংস্পর্শে আসে । স্নায়ুতন্তুর এই স্থানটি অন্য স্থান অপেক্ষা সামান্য সংকুচিত দেখায় । ইহাকে Node of Ranvier বলে । স্নায়ুতন্তুর শাখা প্রশাখার উৎপত্তি কেবল এই স্থানে হয়ে থাকে । 
খ) ননমেডালেটেড তন্তু (Medullated fibre) - এটি ২টি পদার্থ দ্বারা গঠিত - Axis Cylinder ও নিউরোলেমা । এই তন্তুতে মায়ালিন আবরণী থাকে না । তাই ননমেডালেটেড তন্তু, মেডালেটেড তন্তু অপেক্ষা সরু ।