ভারতের মৃত্তিকার শ্রেণীবিভাগ (Soil Classification of India)

ভারতের মৃত্তিকার শ্রেণীবিভাগ (Soil Classification of India):

পলিমাটি ( Alluvial Soil ) : 
  1. অবস্থান : শতদ্রু - গঙ্গা - ব্রম্মপুত্র সমভূমি, মহানদী - গোদাবরী - কৃষ্ণা - কাবেরী নদীর উপত্যকা ও ব-দ্বীপ এবং উপকূলবর্তী অঞ্চলে এই মাটি দেখা যায় ।
  2. ভারতবর্ষের বৃহত্তম স্থান জুড়ে এই মৃত্তিকা দেখা যায় । প্রায় ৪৫.৬% অঞ্চলে এই মাটি দেখা যায় ।
    বৈশিষ্ট্য :
  3. ভাঙ্গর - নদীর প্রবাহপথের উচ্চ অংশের প্রাচীন পলিমাটিকে ভাঙ্গর বলে । এই মাটি অপেক্ষাকৃত অনুর্বর । এই মাটিতে যদি চুনজাতীয় পদার্থের আধিক্য বেশি থাকে, তা হলে এই মাটিকে কংকর বা ঘুটিং বলে ।
  4. খাদার - নদীর তীরবর্তী নবীন পলিমাটিকে খাদার বলে ।এই মাটি খুব উর্বর । গঠন অনুসারে এই মাটি বেলে, এঁটেল ও দোঁয়াশ - এই তিন ভাগে বিভক্ত ।
কৃষ্ণমৃত্তিকা ( Black Soil ) :
  1. অবস্থান : দাক্ষিণাত্য মালভূমির মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটকের অংশবিশেষ, অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট ও তামিলনাড়ু অঞ্চলে এই মাটি দেখা যায় ।
  2. ভারতবর্ষের মোট ১৬.৬% অঞ্চলে এই মাটি দেখা যায় ।

    বৈশিষ্ট্য :
  3. লাভা গঠিত ব্যাসল্ট শিলা থাকে এই মাটির সৃষ্টি হয়েছে । এই মাটির নাম রেগুর । তেলেগু শব্দ রেগাডা থেকে এমন নাম ।
  4. প্রচুর পরিমানে তুলো উৎপন্ন হয় বলে একে কালো তুলা মাটি বলে ।
  5. এই মাটি খুব উর্বর , এর জল ধারণ ক্ষমতা খুব বেশি ।
লাল মাটি ( Red Soil ) :
  1. অবস্থান : সমগ্র তামিলনাড়ু , কর্ণাটকের অংশবিশেষ , মহারাষ্টের দক্ষিণ -পূর্ব ,অন্ধ্র ও মধ্যপ্রদেশের পূর্বাংশ , ছোটনাগপুর অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া ও বীরভূম জেলা ।
  2. আয়তন ১০.৬%

    বৈশিষ্ট্য :
  3. জলধারণ ক্ষমতা খুব কম 
  4. উচ্চ অঞ্চলে লাল মাটি অনুর্বর ও নিন্ম অঞ্চলে উর্বর প্রকৃতির হয় 
ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা (Laterite Soil ) :
  1. অবস্থান : এই মাটি পশ্চিমঘাট পর্বতের শীর্ষদেশে, পূর্বঘাট, রাজমহল পাহাড়, অসম ও মেঘালয়ের পাহাড়ি অঞ্চল দেখা যায় ।
  2. আয়তন : মোট মৃত্তিকার ৭.৫% হল ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা।
  3. বৈশিষ্ট্য : ল্যাটিন শব্দ 'ল্যাটার' অর্থাৎ ইট থেকে ল্যাটেরাইট । ইটের মতো শক্ত ও লাল রঙের ।  অধিক বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে অধিক ধৌত প্রক্রিয়ার ফলে মাটির উপরের স্তরের সিলিকা নিচের স্তরে চলে যায় ফলে উপরের স্তরে লোহা ও আলমুনিয়ামের পরিমান বৃদ্ধি পায় । এই মাটির জলধারণ ক্ষমতা খুব কম । 
বনভূমি ও পার্বত্য মৃত্তিকা (Forest & Mountain Soil ) :

  1. অবস্থান : পূর্ব হিমালয় ও পশ্চিম হিমালয়ের উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে , পশ্চিমঘাট ও নীলিগিরির উঁচু অংশে উদ্ভিদের পাতা পচে এই মাটি সৃষ্টি হয় ।

    বৈশিষ্ট্য :
  2. পডসল মাটি - পশ্চিম হিমালয় নীলিগিরির উঁচু অংশে সরলবর্গীয় বনভূমির পাতা, কান্ড, ফল প্রভৃতির মিশ্রনে যে মাটি সৃষ্টি হয় তাকে পডসল মৃত্তিকা বলে । এই মাটি অম্ল প্রকৃতির । এই মাটি অনুর্বর ।
  3. ধূসর বাদামি অরণ্য মাটি - পূর্ব হিমালয়ের উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে ওক , লরেল , চেস্টনাট প্রভৃতি গাছের পাতা পচে এক ধরণের মাটি সৃষ্টি হয়, এই মাটির অম্লত্বের পরিমান কম, এই মাটি কে ধূসর বাদামি অরণ্য মাটি বলে।
  4. কারেওয়া - কাশ্মীর* 
  5. কাটিল - হিমাচল প্রদেশের পাথুরে মাটি 
  6. আপরুন - কাঁকর মিশ্রিত বেলে মাটি 
  7. তালুন - কাদাতে দো-আঁশ 
মরু অঞ্চেলের মৃত্তিকা ( Arid & Desert Soil ) :

  1. অবস্থান : রাজস্থানের বাগর  ও মরুভূমি, সংলগ্ন পাঞ্জাব হরিয়ানা এবং Rann of Kutch -এর অংশ বিশেষ।

    বৈশিষ্ট্য :
  2. সিরোজেম  - এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমান খুব কম, তাই বেশি বাষ্পীভবন ফলে মাটির উপরিভাগে নুনের পরিমান (যেমন - ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সোডিয়াম ইত্যাদি ) বাসি থাকে । এই মাটির জল ধারণ ক্ষমতা খুব কম হয় । এই মাটিকে সিরোজেম বলে ।
লবনাক্ত ও ক্ষারীয় মৃত্তিকা ( Saline & Alkaline Soils ) :
  1. অবস্থান : বিহার, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও রাজস্থানের শুল্ক অঞ্চলে ও সমুদ্র উপকূল বর্তী অঞ্চলে এই মাটি দেখা যায় ।

    বৈশিষ্ট্য :
  2. এই মাটি স্থানীয় ভাষায় নানা নাম পরিচিত । এগুলো হলো - রে , থুর , কালার ঊষর , রাকার, চোপান ইত্যাদি ।
 ব -দ্বীপ  অঞ্চলের মৃত্তিকা :

  1. অবস্থান : ভারতের পূর্ব উপকূলের গঙ্গা, মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা ও কাবেরী নদীর ব-দ্বীপ অঞ্চলে ও ভারতের পশ্চিম উপকূলের কাথিয়াবাড় উপদ্বীপ ও রণ অঞ্চলে এই মাটি দেখা যায় ।
  2. বৈশিষ্ট্য : বেশিরভাগ সময়ে এই অঞ্চলের মাটি সমুদ্রের জলে ডুবে থাকে । এই মাদী লবনাক্ত ও কর্দমাক্ত । এই মাটি কৃষি কাজের জন্য উপযোগী নয় । 
পিটি ও জলাভূমি অঞ্চলে মৃত্তিকা ( Peaty & Marshy Soil ) :
  1. অবস্থান : এই মাটি কেরালার উপকূল, পশ্চিমবঙ্গের উপকূল, ওডিশা উপকূল ও তামিলনাড়ু উপকূলে দেখা যায় ।
  2. বৈশিষ্ট্য : এই মাটি ভারী ও কাঁদা যুক্ত । কালোবর্ণের এই মাটি উচ্চমাত্রায় অম্লিক ।